ক্যানসার শরীরের যেকোনো অংশে দেখা দিতে পারে। তবে কানের
ক্যানসার খুবই বিরল হওয়ায় অনেক সময় মানুষ এটিকে সাধারণ কানের সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কানের ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
কানের ব্যথা প্রায় সবারই একসময় হয় এবং সাধারণত ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার করলে সেরে যায়। কিন্তু চিকিৎসা নেওয়ার পরও যদি কয়েক দিনের মধ্যে আবার ব্যথা ফিরে আসে, তাহলে তা কানের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যথা যদি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অনেক ক্ষেত্রে কানের বাইরের অংশে ত্বকের ক্যানসার হিসেবে রোগটির শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আবার কারও ক্ষেত্রে কর্ণনালীতে টিউমার তৈরি হতে পারে, যাকে ‘ইয়ার ক্যানাল ক্যানসার’ বলা হয়। মধ্যকর্ণ আক্রান্ত হলে রোগের জটিলতা আরও বেড়ে যায়।
কানের ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ
অস্বাভাবিক নিঃসরণ: কান থেকে ঘন ঘন রক্তপাত হওয়া বা লালচে পুঁজের মতো তরল বের হওয়া
শ্রবণ সমস্যা: হঠাৎ কম শোনা, কানে সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস)
তীব্র ব্যথা: কানের ভেতরে বা আশপাশে একটানা অসহনীয় যন্ত্রণা
অন্যান্য উপসর্গ: রোগ গুরুতর হলে কানের পাশের অংশে ফোলা, এমনকি আশপাশের চুল পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে
সচেতনতা ও করণীয়
রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থাকায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তাই কানের ময়লার রঙে পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের অস্বস্তি বা অস্বাভাবিক ব্যথা হলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে কানের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। সুস্থ থাকতে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
এসআর
মন্তব্য করুন: