উপমহাদেশের সংগীত জগতের নক্ষত্র আশা ভোসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন বিশ্ব। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, এ আর রহমান, শাহরুখ খান থেকে শুরু করে দুই বাংলার তারকারা যখন শোক প্রকাশ করছেন, তখন এই কিংবদন্তির সঙ্গে
কাটানো একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্মৃতি ভাগ করে নিলেন টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মুনমুন সেন। দীর্ঘদিনের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
মুনমুন সেন জানান, তার স্বামী ভরত দেব বর্মন এবং প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন (পঞ্চম) সম্পর্কে তুতো ভাই। সেই সুবাদে মুম্বাই গেলেই দেব বর্মন বাড়ি থেকে যত্নে রান্না করা মাছ আসত মুনমুনদের জন্য, যা নিজের হাতে টিফিন ক্যারিয়ারে গুছিয়ে দিতেন স্বয়ং আশা ভোসলে। কলকাতায় মুনমুনদের বাড়িতে এসে শচীন দেব বর্মনের যত্ন করে রাখা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই দিন থেকেই সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং মুনমুন তাকে ‘বউদি’ বলে ডাকা শুরু করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, "আমার বউদি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা অথচ দৃঢ় চরিত্রের এক নারী। তার সাদা শাড়ি পরার স্টাইল ও ফ্যাশন সেই সময়ে ছিল আলোচনার বিষয়।" মুনমুন আরও জানান, রাহুল দেব বর্মনের প্রয়াণের দিন মুম্বাইয়ে শেষবার তাকে দেখেছিলেন তিনি। শোকস্তব্ধ আশা ভোসলে সেদিন যেন পাথরপ্রতিমায় পরিণত হয়েছিলেন। দুবাইয়ে নিজের রেস্তোরাঁয় মুনমুনকে দাওয়াত দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করা আর হয়ে ওঠেনি অভিনেত্রীর।
মুনমুন সেনের মা সুচিত্রা সেনের সিনেমার পাশাপাশি মুনমুনের নিজের ছবিতেও আশা ভোসলের গাওয়া গান ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। এই মহাপ্রয়াণে শোকাতুর অভিনেত্রী বলেন, "একটি পুরো যুগ নিয়ে চলে গেলেন আশা ভোসলে। তার সুর ও গান আমরা আর কোনোদিন ফিরে পাব না।" শচীন কর্তা ও রাহুল দেব বর্মনের সুরের সেই উত্তরাধিকার যেন আশা ভোসলের চলে যাওয়ার মাধ্যমেই এক দীর্ঘ ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটাল।
এসআর