[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

‘সুখী নারীকে মেনে নিতে পারে না সমাজ’—হানিয়া আমির

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৫:৩২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান ট্রোলিং ও অনলাইন হয়রানি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।


ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘attention seeker’ লিখে অনলাইন জগতের কঠিন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেন। ‘কাভি ম্যাঁয় কাভি তুম’ (২০২৪) ও ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ (২০২৫)-এর এই অভিনেত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা অনুপস্থিত থাকার পেছনে ছিল লাগাতার নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা।


হানিয়া বলেন, বিতর্ক তার জন্য নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাকে নিজের আচরণ ও উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, সমাজে অনেকেই সুখী ও আত্মবিশ্বাসী নারীকে সহজভাবে নিতে পারে না। শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও অনেক সময় এ ধরনের মনোভাব পোষণ করেন।


নারীদের মধ্যে পারস্পরিক নেতিবাচকতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টিকে ‘ঘৃণার স্রোত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্য নারীকে ছোট করার মধ্যেই যেন অনেকেই এক ধরনের স্বস্তি খোঁজেন। আগে এসব মন্তব্য ঘর বা সমাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখনো মানুষের গায়ের রং বা শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। সম্প্রতি নিজের একটি ‘দিস অর দ্যাট’ ধরনের তুলনামূলক পোস্টের উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন— কেন নারীদের ক্ষেত্রেই এমন তুলনা বেশি করা হয়, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা কম দেখা যায়।


খ্যাতি অর্জনের পর নারীদের বিরুদ্ধে প্লাস্টিক সার্জারি বা অনৈতিক উপায়ের অভিযোগ তোলার প্রবণতারও সমালোচনা করেন হানিয়া। তার ভাষায়, কোনো নারী প্রচলিত ধ্যানধারণা ভাঙতে গেলে তাকে সহজে গ্রহণ করা হয় না।


অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের উচিত একটু থেমে ভাবা— আমরা কি কাউকে তার সাফল্য বা আনন্দময় জীবনযাপনের জন্যই নেতিবাচকভাবে দেখছি?


পোস্টটি প্রকাশের পর অনেক ভক্ত ও সহকর্মী তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের মতো করে বাঁচতে দেওয়াই হওয়া উচিত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর