[email protected] মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইবিতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের উৎসবে প্রাণচাঞ্চল্য, মুখর ক্যাম্পাস

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৬ ৭:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের নানা জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী আয়োজন যেন এক জায়গায় তুলে ধরেছে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও স্বাদ।

সোমবার (৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশি উৎসব-১৪৩৩’।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।


উৎসবের দ্বিতীয় দিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে স্টল সাজিয়েছেন।

প্রায় ৩০টি জেলার অংশগ্রহণে পিঠা-পুলি, বিভিন্ন ভর্তা, চিতই পিঠা, মেজবানি মাংস, সাতকরা, কাঁচা গোল্লা, পেরা সন্দেশ, কাটারিভোগ, ইলিশপেটি, মাঠা, দই-মিষ্টি, মৌসুমি ফলসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি হচ্ছে।


খাবারের পাশাপাশি স্টলগুলোতে রয়েছে হস্ত ও কারুশিল্পের পণ্য। রঙিন বালা, গলার হার, কানের দুলসহ মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

এছাড়া ফুল ও ফলের গাছ এবং বইয়ের স্টলও দেখা গেছে।


উৎসবকে ঘিরে রয়েছে নাগরদোলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে উৎসবের আমেজ।

ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের মধ্যেও এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।


আয়োজকদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার ও সংস্কৃতিকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেদের জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে পারছেন, তেমনি অন্য অঞ্চলের খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।


নরসিংদীর এক শিক্ষার্থী জানান, তারা চালের পায়েস, শুঁটকির বড়া, নকশি পিঠা ও দই-চিড়াসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে অংশ নিয়েছেন।

এমন আয়োজন জেলার সংস্কৃতি তুলে ধরার ভালো সুযোগ তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


নীলফামারীর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের স্টলে পেশকার, ডিম-আলুর তরকারি, শুঁটকি ভর্তা ও সিদল ভর্তা রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে প্রশংসা পেয়েছে।


পাবনা জেলা থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের স্টলে পেরা সন্দেশ, কাটারিভোগ ও ইলিশপেটি-মাঠা রাখা হয়েছিল, যা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।


অভয়ারণ্যের সাধারণ সম্পাদক তুষার মালাকার বলেন, প্রায় ৩০টি জেলার অংশগ্রহণে এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সহায়ক।

পাশাপাশি ‘আমার দেশই সেরা’ শীর্ষক রম্য বিতর্কসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও উৎসবে যুক্ত করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, আয়োজন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

এসআর

সম্পর্কিত খবর