[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

কুবিতে আদিবাসী ছাত্র সংসদের সংবর্ধনা ও বিদায় অনুষ্ঠান

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৩২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আদিবাসী ছাত্র সংসদের উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং প্রবীণদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুইচিং মারমা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মং ক্যএ মারমা ও কাষ্পিয়ান দেওয়ান।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মা।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবরাজ দেববর্মা বলেন, সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও আদিবাসী শিক্ষার্থীরা মেধা ও মননে এগিয়ে থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি ত্রিপুরা রাজবংশের ঐতিহ্য, বীরচন্দ্র টাউন হল এবং সংগীতজ্ঞ সচিন দেববর্মণের অবদানকে কুমিল্লার গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সচিন দেববর্মণের নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবাসিক হলের নামকরণের প্রস্তাব দেন।


বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, নিজের পরিচয় নিয়ে সংকোচের কিছু নেই—সবার আগে আমরা বাংলাদেশি। জাতিগত বৈচিত্র্যই এই দেশের অন্যতম শক্তি। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে লেখালেখিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রতি বছর একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন, যেখানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে সুইচিং মারমা বলেন, আদিবাসী ছাত্র সংসদ কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, দিকনির্দেশনা প্রদান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা বিশ্বপরিসরে তুলে ধরাই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং প্রবীণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর