দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) তার প্রতিষ্ঠার ৫৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।
১৯৭০ সালের ১২ জানুয়ারি মাত্র চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে জাবি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সূচনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শোভাযাত্রা, পিঠা উৎসব এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ৫৫ বছর অতিক্রম করে ৫৬ বছরে পা রাখা এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ঐতিহাসিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, “জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চা অব্যাহত রাখাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অঙ্গীকার। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমরা এই প্রত্যয় নতুন করে গ্রহণ করছি।
৫৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় জাবি থেকে বেরিয়ে আসা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ প্রশাসন, শিক্ষা, গবেষণা, গণমাধ্যম, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য জার্নালে গবেষণা প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিময় মুহূর্ত ও ছবি শেয়ার করে প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: