কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল
ছয়জন শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান রেহান রেজা এবং উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভুঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন কুবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। এ ছাড়া ফোবানার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— গণিত বিভাগের তামান্না আক্তার, ইংরেজি বিভাগের অলিউল্লাহ, লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. ইহসানুল হক সাকিব, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের মো. ইয়াসিন মিঞা, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং আইন বিভাগের মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
বৃত্তি পেয়ে গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, “এই স্কলারশিপ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।
প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য। ফোবানার এই সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং চাই তারা ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকুক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “যারা আজ স্কলারশিপ পেয়েছ, কখনো নিজেদের ছোট মনে করবে না। আমি দোয়া করি, একদিন তোমরাও অন্যদের জন্য এমন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। জীবনে অন্তত কাউকে ক্ষতি না করার মানসিকতা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
ফোবানার উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভুঁইয়া বলেন, “আমরা জিএফবি গ্রুপ বিশ্বাস করি যে আমাদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করি। এটি আমাদের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর পাশাপাশি আমরা প্রতি মাসে ৫০ জন অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশনের ব্যবস্থাও করে থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করায় আমরা আনন্দিত। আজ যারা বৃত্তি পেয়েছে, ভবিষ্যতে তারাও যেন একইভাবে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “ফোবানা পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক। আজ যারা এই সহায়তা পেয়েছে, ভবিষ্যতে তারা যেন সফল উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখে।”
উল্লেখ্য, ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর একটি ফেডারেশন, যা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: