[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে কুবিতে শেষ হলো আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশ ও বিদেশের প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে প্রথম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন।

বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ১৮৫টির মতো গবেষণা অ্যাবস্ট্রাক্ট উপস্থাপন করা হয়।

‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ইন সায়েন্সেস’ শীর্ষক এই সম্মেলন ৯ ও ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান।

এ সময় বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম দিনে ১৪টি ভেন্যুতে একযোগে ৬টি কি-নোট সেশন, ১৩টি টেকনিক্যাল সেশন এবং একটি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে ৯টি ভেন্যুতে ৪টি কি-নোট সেশন ও ৯টি টেকনিক্যাল সেশন আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য মোট ২৭০টি গবেষণা অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১৮৪টি অ্যাবস্ট্রাক্ট নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত গবেষণাগুলোর মধ্যে ১৪০টি মৌখিক উপস্থাপনা এবং ৩৫টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ১৩টি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং দুটি প্লেনারি টক অনুষ্ঠিত হয়।


দেশ ও বিদেশের প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৬৩০ জন গবেষক ও শিক্ষার্থী সম্মেলনে অংশ নেন। উপস্থাপিত গবেষণাগুলোর মধ্য থেকে মান ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে ২৬টি প্রেজেন্টেশনকে সেরা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।


সমাপনী বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সুপরিকল্পিত আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিকতায় একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা বহুমাত্রিক গবেষণার গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।


তিনি আরও বলেন, কী-নোট বক্তৃতা, প্লেনারি আলোচনা ও পোস্টার সেশনগুলো গবেষণার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণা সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


সম্মেলনের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, সম্মেলন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাই যে সহযোগিতা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

দুই দিনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শাখার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর