[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

নতুন বছরে রাবিপ্রবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সময় তার নিজস্ব গতিতে আরেকটি বছরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।

পুরোনো বছরের গ্লানি ঝেড়ে নতুন সূর্যের আলোয় শুরু হয়েছে নতুন বছরের যাত্রা।

অতীতের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতাকে পেছনে রেখে শিক্ষা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা এখন সবার কণ্ঠে।

শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

এই নতুন বছরকে ঘিরে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নানা প্রত্যাশা ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাবিপ্রবিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এসব মতামত তুলে ধরেছেন প্রতিদিনের বাংলা-এর রাবিপ্রবি প্রতিনিধি।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা লাবণ্য বলেন, ২০২৬ সালে রাবিপ্রবিকে একটি আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠতে দেখতে চান তারা।

উন্নত গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আরও বিকশিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা, ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সানি দেওয়ানজী জানান, নতুন বছর হোক রাবিপ্রবির জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সূচনা। তার প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর ও ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের সঙ্গে টক সেশন চালুর দাবি জানান তিনি।


ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অনুরাগ দাশ গুপ্ত বলেন, কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়বেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত রাবিপ্রবি নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে চলেছে। তিনি ল্যাব সুবিধা সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্যান্টিনে খাবারের মানোন্নয়ন ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন।


কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোসা ফারজানা ইশরাত বলেন, প্রতিটি বিভাগে আধুনিক ও পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নিয়মিত ক্লাস ও প্রজেক্ট কার্যক্রমে যেন অবকাঠামোগত সংকট না থাকে, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা এবং মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও আলাদা নামাজের জায়গা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রীপূর্ণা চাকমা জানান, রাবিপ্রবি একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নতুন বছরে গবেষণা কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সুযোগ সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

আধুনিক অডিটোরিয়াম, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, নিরাপদ আবাসন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০২৬ সালে রাবিপ্রবি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ডে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর