কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘লোকপ্রশাসন অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীকে সুবিধা দিতে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে হঠাৎ করে নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিভাগীয় সূত্র জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর নতুন আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই সময়সূচি বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তবে কোনো পূর্বঘোষণা বা লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থগিত করে তা আগামী ৬ জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগের দিন কয়েকজন প্রার্থী প্রতি ব্যাচ থেকে দুজন করে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংযুক্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।
সেখানে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন পেছানোর আবেদন জানানো হয়।
ওই স্মারকলিপির পর বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোছা: শামসুন্নাহার, নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান শাহরিয়ার বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে লোকপ্রশাসন অ্যাসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে দায়িত্ব হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত, যা ১৫ ডিসেম্বর শেষ বলে গণ্য হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক কার্যবিবরণী ও আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথাও গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে।
গঠনতন্ত্রে আরও বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্ভব না হলে বিষয়টি বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভায় আলোচনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করতে হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক কমিটির কোনো সভা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে তারিখ পরিবর্তন করেছে, যা গঠনতন্ত্রের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আরাফাত আমিন রাফিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক মনোনয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের দাবিতে দেওয়া আবেদনগুলো গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু প্রার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আল আরাফাত আমিন রাফি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চান।
নির্বাচন কমিশনার সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান শাহরিয়ার বলেন, এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন জানান, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যাদের আপত্তি রয়েছে, তারা লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোছা: শামসুন্নাহারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহান তালুকদার বলেন, তাঁদের সময় প্রার্থীদের সশরীরে গিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে হতো এবং একটির বেশি ফরম দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, আগের নির্বাচনগুলো নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এ ঘটনায় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংগঠনের নির্বাচনের জন্য অশনিসংকেত।
এসআর
মন্তব্য করুন: