ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বিশ্ববাজারে ইতিহাস গড়ল স্বর্ণের দাম
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। মঙ্গলবার স্বর্ণের মূল্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এসব মূল্যবান ধাতুর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দিনের এক পর্যায়ে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৬০১ দশমিক ৬৩ ডলারে। আগের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ৪,৬২৯ দশমিক ৯৪ ডলার পর্যন্ত উঠে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। তবে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস সামান্য কমে ৪,৬১০ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে।
অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কঠোর বক্তব্যের পর ডলারের কিছুটা শক্তিশালী অবস্থান এবং আসন্ন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশের অপেক্ষা—এই দুটি বিষয় স্বর্ণের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি করেছে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস সম্প্রতি বলেন, নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রানীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরে দুই দফা সুদহার কমাতে পারে ফেড। এ প্রেক্ষাপটে সিপিআই তথ্য ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, এতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদহার কম থাকলে এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পায়।
রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা আরও বলেন, “৪,৫০০ ডলারের ওপরে স্বর্ণের দাম এখন স্থিতিশীল। ডলারের দুর্বলতা ও চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ৫,০০০ ডলারের স্তর আর দূরে নয়। বছরের প্রথমার্ধেই সেই স্তর পরীক্ষা হতে পারে।”
এদিকে বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপ জানিয়েছে, মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে মার্জিন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
অন্যান্য ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছায়, যা এর আগের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৩৫২ দশমিক ৮৯ ডলার, আর প্যালাডিয়ামের মূল্য ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১,৮৪৭ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: