[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

কক্সবাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:১৫ পিএম

কক্সবাজারে গত কয়েক দিন ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার কম ফিরছে। এর ফলে


 মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও—দাম বেড়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।


বৃহস্পতিবার সকালে শহরের নুনিয়ারছড়া ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগর থেকে কোনো ট্রলার ঘাটে ভেড়েনি। মাছ না থাকায় ঘাটকেন্দ্রিক শ্রমিকরা কাজহীন সময় কাটাচ্ছেন, আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।


মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, পৌষ মাসে শীতের তীব্রতা বাড়লে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক ট্রলার পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়া পর্যন্ত সাগরেই অবস্থান করছে।


ছোট নৌকার মাঝি মোহাম্মদ ফারুক জানান, শীতের কারণে জালে মাছ কম ধরা পড়ছে। কয়েক দিন ধরে ট্রলার না আসায় তাদের আয়ও বন্ধ রয়েছে। সাধারণত ছোট নৌকাগুলো ট্রলারের মাছ পরিবহনের কাজ করে, যা দিয়েই অনেক পরিবারের জীবিকা চলে।


স্থানীয় একটি মৎস্য বিপণন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান রিশাদ বলেন, সাগর থেকে ট্রলার না ফেরায় বাজারে তাজা সামুদ্রিক মাছের সংকট তৈরি হয়েছে। চাহিদা থাকলেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি সপ্তাহে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে, তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পাঁচ হাজারের বেশি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, শীতের প্রভাব এখন গভীর সমুদ্রেও অনুভূত হচ্ছে। প্রায় এক হাজারের বেশি ট্রলার পর্যাপ্ত মাছের অপেক্ষায় সাগরে অবস্থান করছে। ট্রলারগুলো ফিরতে শুরু করলেই মাছের সংকট কমবে।


সামুদ্রিক মাছের ঘাটতির সুযোগে বাজারে নদী ও চাষের মাছের দামও বেড়েছে। ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।


বাহারছড়া বাজারের ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে সামুদ্রিক মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দাম অনেক বেশি। ইলিশের দাম কেজিপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামুদ্রিক মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা এখন বাধ্য হয়ে বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর