[email protected] শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

কৃষকের দুশ্চিন্তা দূর করছে পলিনেট হাউজ, উন্নত চারায় মিলছে সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৫৯ এএম

বৈরী আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা কিংবা অকাল বৃষ্টিতে চাষাবাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে


 বীজতলা ও চারা রোপণ ঘিরে। চারা নষ্ট হয়ে যাবে কি না, রোগবালাই বা পশু-পাখির আক্রমণ হবে কি না—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের নিত্যসঙ্গী। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির অংশ হিসেবে চালু হওয়া পলিনেট হাউজ সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর করেছে।


নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও পরিবেশে উৎপাদিত উন্নতমানের চারা ব্যবহার করে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলাসহ আশপাশের জেলার কৃষকরা এখন লাভজনক ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এই চারার চাহিদাও বাড়ছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় দুই বছর আগে আক্কেলপুর উপজেলার মানিকপাড়া এলাকায় একটি পলিনেট হাউজ স্থাপন করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে সারা বছর নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।


এই পলিনেট হাউজে ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজির উন্নত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। মান ভালো হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এখানে এসে চারা সংগ্রহ করছেন।


নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার কৃষক শামসুল হক বলেন, আগে এখান থেকে মরিচের চারা কিনে ভালো ফল পেয়েছিলাম। এবার বেগুন চাষের জন্য ‘গ্রিন বল’ জাতের ৩০০টি চারা নিয়েছি। আগের অভিজ্ঞতা ভালো হওয়ায় এখানকার চারার ওপর ভরসা আছে।


প্রথমবার পলিনেট হাউজ থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক খালেক হোসেন জানান, ছয় শতক জমিতে মরিচ চাষের জন্য ৫০০টি চারা কিনেছেন। তিনি বলেন, ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এখান থেকেই সব ধরনের চারা সংগ্রহ করব।


পলিনেট হাউজের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা আবু রায়হান জানান, এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। মাটির পরিবর্তে কোকোপিট ব্যবহার করায় চারা দুর্বল হয় না এবং রোপণের পর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কম। ফলে ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।

.
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, এই পলিনেট হাউজ থেকে আশপাশের কৃষকরা সহজেই উন্নতমানের মৌসুমি সবজির চারা পাচ্ছেন। এসব চারা ব্যবহার করে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, এই পলিনেট হাউজে ক্যাপসিকাম, টমেটো, বেগুন ও শসার মতো উচ্চমূল্যের ফসলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।

এখানে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি হিসেবে ড্রিপ ইরিগেশন ও মিস্ট ইরিগেশন ব্যবহৃত হয়।

পাশাপাশি মাটিবিহীন বা ‘সয়েল-লেস’ পদ্ধতিতে কোকোপিটে চারা উৎপাদনের ফলে শিকড় শক্তিশালী হয় এবং রোপণের পর ধকলের ঝুঁকি থাকে না।


তিনি আরও বলেন, শতভাগ চারা টিকে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমছে এবং আয় বাড়ছে। একই সঙ্গে পলিনেট হাউজে কর্মরতদের জীবনমানও উন্নত হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর