কুড়িগ্রামে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন
মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে তেমন উষ্ণতা নেই।
শীতের প্রভাবে জেলার হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষরা।
কাজের সন্ধানে বাইরে বের হতে না পারায় তাদের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
হাসপাতালে ভর্তি চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া জানান, কয়েক দিন ধরে তার ছেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকালে শীত এতটাই বেশি থাকে যে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চালানো সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এনজিও ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: