মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার প্রভাবে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে
কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষ। একই সঙ্গে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। জেলায় টানা দুই দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র ঠান্ডা আরও বেড়ে যায়। এতে দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া মানুষের কষ্ট বেড়েছে।
শীত ও কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অনেক জায়গায় চারাগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে না। কোথাও কোথাও চারা হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে, যা কৃষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভেলাকোপা এলাকার কৃষক আমিন মিয়া জানান, কয়েক দিনের টানা শীত ও কুয়াশায় বীজতলার চারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু জায়গায় চারা গজালেও রং পরিবর্তন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫শ’ হেক্টর, তবে বাস্তবে এর চেয়েও বেশি এলাকায় বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত বীজতলায় বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও চারা হলুদ হলেও রোদ পেলে তা স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। কৃষকদের বীজতলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের পাশাপাশি সকালে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে এবং জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: