ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। শীতের
তীব্রতায় সকাল থেকে রাত—সব সময়ই শরীর জবুথবু। তবু জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতেই হচ্ছে দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও রিকশাচালকদের। শীতের কষ্টের চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে পেটের দায়।
রাজধানীতে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক সালমাত হোসেনের মতো বহু মানুষ শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন কাজে বের হচ্ছেন। গ্রামের পরিবার নির্ভর করে তার আয়ের ওপর। একদিন কাজ না করলে চুলা জ্বলে না—এই বাস্তবতা তাকে শীতে কাঁপলেও কাজে নামতে বাধ্য করে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকলেও তিনি হাজিরার আশায় ভোরেই রওনা হন।
একই অবস্থার কথা জানান আরেক শ্রমিক ইউনূস মিয়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় শীত থাক বা না থাক, কাজ করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। তার মতে, গরিব মানুষের কষ্ট অনেক সময় চোখে পড়ে না—শরীরের কাঁপুনি দেখা গেলেও ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে যায় আড়ালেই।
শুধু শ্রমিক নয়, রিকশাচালকরাও পড়েছেন চাপে। কিস্তির বোঝা মাথায় নিয়ে নিয়মিত রিকশা চালাতে হচ্ছে শফিকুলের মতো চালকদের। শীতের সকালে বের না হলে আয় বন্ধ হয়ে যায়, আর তাতে কিস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঠান্ডা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন রাস্তায় নামছেন তারা।
এদিকে টানা কয়েকদিনের শীত রাজধানীর ফুটপাতের গরম কাপড়ের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা ও নতুনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গরম পোশাকের দোকানে ভিড় দেখা গেছে। শীত বাড়ায় মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার ও শিশুদের শীতবস্ত্রের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
ফুটপাতের বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি বেড়েছে, তবে মৌসুমি বিক্রেতা বাড়ায় প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন শীত দীর্ঘ হলে ব্যবসা ভালো হবে, কারণ ঢাকায় সাধারণত শীত বেশি দিন থাকে না।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। সূর্যের দেখা মিললেও তাপ তেমন নেই। সব মিলিয়ে পৌষের এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরাই।
এসআর
মন্তব্য করুন: