লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক
এলাকায় প্রায় বারো বছর আগে নির্মিত একটি সেতু আজও সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না। দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী এর কোনো বাস্তব সুফল পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কুড়ারপাড় বিলে প্রায় ৩৩ মিটার দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মিত হয়। তবে নির্মাণের সময় আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি না থাকায় সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে আনা হয়নি। ফলে সেতুর দু’পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি থাকায় আজও সংযোগ সড়ক তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সেতুটি দুই পাশের বসতবাড়ির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকলেও কার্যকর যোগাযোগের অভাবে তা এলাকাবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ফেলে সেতুতে ওঠানামার জন্য একটি সরু কাঁচা পথ তৈরি করেছেন। তবে পথটি এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে কেবল পায়ে হেঁটে চলাচল করা যায়; মোটরসাইকেল, ভ্যান বা অন্য কোনো ছোট যান চলাচল কার্যত অসম্ভব।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতুর দুই পাশে প্রায় ৪০০ মিটার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হয়ে উঠত।
এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়—দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসবে না।
এসআর
মন্তব্য করুন: