[email protected] মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৮ বৈশাখ ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় হাড় কাঁপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩:৫২ এএম

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে স্থবির জনজীবন, ভোগান্তিতে খেটে

খাওয়া মানুষ
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই তীব্র শীত নেমে এসেছে। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল, দরিদ্র ও দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষজন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৪.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মানুষ হঠাৎ করেই চরম শীতের মুখে পড়েছে।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন মোড় ও চায়ের দোকানের সামনে খড়, কাঠ কিংবা পুরোনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে নিম্নআয়ের মানুষদের।
গ্রাম থেকে শহরে এসে হাঁস-মুরগি বিক্রি করা এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে ক্রেতা কমে গেছে। আগে সকালেই বিক্রি শেষ হলেও এখন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দিনমজুরদের ভাষ্য, এক দিন কাজ না করলে সংসার চালানো অসম্ভব। তাই হাত-পা অবশ হয়ে এলেও কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একই কথা জানান বয়স্ক ভ্যানচালকরাও। যাত্রী কম, ঠান্ডা বাতাসে শরীর কাঁপছে—তবু রোজগারের আশায় রাস্তায় নামতে হচ্ছে।
শীতের প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যখাতেও। সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রাত ও ভোরে শীত আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর