[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলন বলপ্রয়োগে দমনের চেষ্টা করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৫৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চলমান পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে মন্তব্য

 করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার ভুলভাবে এই আন্দোলন মোকাবিলা করার কারণে আজ দেশের পরিস্থিতি এমন সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করছে।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাজীপুরে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

​নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই আন্দোলন শুরু হয়েছে আরও এক-দুই সপ্তাহ আগে। আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও প্রথম তিন দিনে তারা কোনো সভা করেনি। আজ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম সভা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের চরম অবহেলার বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করছেন এটি কোনো শ্রমিক আন্দোলনই নয়। অর্থাৎ সরকার এখন পর্যন্ত এটিকে ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবির আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।”

​সহিংসতার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, “এই আন্দোলনে সহিংসতা শুরু করেছে বিএনপি নিজেই। শ্রমিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, সরকারদলীয় সহিংসতা ও নিপীড়ন চলমান রয়েছে। গতকাল বিএনপির লোকজনকে হকিস্টিক ও স্টাম্প হাতে রাস্তায় নামানো হয়েছে শ্রমিকদের পেটানোর জন্য। বিএনপিকে বা এসব লোককে হকিস্টিক হাতে মাঠে নামার দায়িত্ব কে দিয়েছে? স্পষ্টতই দলীয়ভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আন্দোলন দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

​তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শ্রমিক কলোনিগুলোতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং অসংখ্য শ্রমিককে গ্রেপ্তার ও মামলায় জড়ানো হচ্ছে। সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের মতোই বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে শ্রমিক আন্দোলন দমনের পথ বেছে নিয়েছে।

​নিহত শ্রমিক তৌফিকের কথা স্মরণ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “পোশাকশ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। তার স্মরণে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করেছে, গুলি চালিয়েছে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়কসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতেই আমরা ঢাকা মেডিকেলে এসেছি।”

​রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে যেকোনো আন্দোলনে ‘জামায়াত-শিবিরে ভূত’ দেখা হতো, আর এখন বিএনপি যেকোনো আন্দোলনে ‘আওয়ামী লীগের ভূত’ খুঁজছে। এভাবে আন্দোলনের ন্যায্যতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট এবং তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে সাভার ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি-ই তাদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। বিচারে আপস করে বিএনপি জাতীয় ঐক্যমত ভঙ্গ করেছে, যার দায় সম্পূর্ণ সরকার ও বিএনপিকেই নিতে হবে।”

​তিনি সরকারকে অবিলম্বে টালবাহানা বন্ধ করে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শ্রমিকদের অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি। একদিকে আওয়ামী লীগের চক্রান্ত এবং অন্যদিকে বিএনপির রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান।”

​সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় নাহিদ ইসলাম তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন:

​১. নিহত শ্রমিক তৌফিককে আইএলও (ILO) কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করা।

২. গ্রেপ্তারকৃত সব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যায় মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি।

৩. আন্দোলন শেষে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই, ব্ল্যাকলিস্ট বা ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না এবং চাকরিচ্যুত কিংবা নতুন আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে।

​পরিশেষে তিনি বলেন, “পোশাকশিল্প আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদের আগে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মালিক, শ্রমিক ও সব রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” 

এইচ/এম

সম্পর্কিত খবর