বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগের তদন্ত আট মাসের বেশি সময়েও শেষ হয়নি।
মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিভাইস হস্তান্তরে তাঁদের আপত্তি নেই।
তবে সেগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
তাঁদের উপস্থিতিতে ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য, মামলা করার সময় হ্যাকিং-সংক্রান্ত কয়েকটি গবেষণাপত্র এবং সরকারি সার্ভার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র থেকে অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে কিছু নথিও তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ মনে করছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে মূল ডিভাইসের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আইপি ঠিকানা, লগইন সেশনের তথ্য এবং ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গত এপ্রিল মাসে আদালত সংশ্লিষ্ট ডিভাইস জব্দ ও পরীক্ষার অনুমতি দেন।
আগামী নভেম্বর মাসে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এদিকে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
তাঁর দাবি, ডিবির তল্লাশিতে নেওয়া কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ফেরত দেওয়া হলেও সেগুলো থেকে কোনো ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত ডিভাইস পরীক্ষা না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করে নিজেকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন বরখাস্ত এই কর্মকর্তা।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশিত হয়।
পোস্টটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে জামায়াতের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
পরে সরকারি ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগসহ এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
তবে অ্যাকাউন্টে কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এসআর