ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ
থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা থেকে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত তাকে ‘এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি’ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ তিনি এক বাক্যেই মেনে নিয়েছিলেন বলে জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের পেছনের কারণ ও সার্বিক বিষয় নিয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
গত ১৭ অক্টোবর নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক। একটি ভিডিওতে তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজনকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
একজন জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে সরাসরি অভিযান চালানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের জের ধরে গত ১৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।
ফেসবুকে ইশরাকের বক্তব্য
নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাক উল্লেখ করেন, প্রথমে বিষয়টিকে তার শাস্তি মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তটিই সঠিক ছিল।
তিনি দাবি করেন:
একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক মিথ্যা প্রচার চালিয়ে চরিত্র হনন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের ছক কষেছিল।
তাকে জনগণের কাছে সমালোচিত করা এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে একঘরে করার পরিকল্পনা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগেভাগেই এই ষড়যন্ত্রটি বুঝতে পেরেছিলেন এবং অতীত থেকে প্রাপ্ত নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তাকে সতর্ক করে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
ইশরাক আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং এই পরামর্শ মানার মাধ্যমে তিনি বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
এসআর