[email protected] শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশে চাঁদাবাজির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও চাঁদা দিতে হচ্ছে।

নিজের নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাজপথে নামবেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের চাঁদাবাজির পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্যও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।

চাঁদা না দেওয়ায় খামারের মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজ এলাকায় অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার ঘোষণা দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে তিনি এর প্রতিবাদ করবেন।

বালু চুরি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশে রেখে রাজনীতি করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরোধিতা করে রুমিন ফারহানা জানান, সারের ডিলারশিপ কিংবা সড়কের কাজের ঠিকাদারি পাওয়ার জন্য সুপারিশ করার মতো কোনো আত্মীয় তাঁর নেই।

একই সঙ্গে চাঁদা দিয়ে কাউকে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে না এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। কোনো কর্মী সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে কিংবা অনিয়মে জড়ালে তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান রুমিন ফারহানা।

অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে মানুষের আশা থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।

বাজার পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজির কম দামে সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকায় প্রতিটি ডিমের দামও ১৫ টাকায় পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর