[email protected] শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়, এমপিদের কাছে চাইলেন ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ৯:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন দলের সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।

 

সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি প্রথমে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মির্জা ফখরুলও ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

 

এরপর বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে একাধিকবার তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

 

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

 

বিএনপিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে তার কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

 

দল তাকে যে দায়িত্ব ও সম্মান দিয়েছে, তা যথাযথভাবে রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কোনো ধরনের আপস করবেন না।

 

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সহকর্মীদের সঙ্গে আগের মতো দেখা হবে না—এমন আবেগঘন কথাও বলেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

এ সময় সভায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় বলে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে তারা জানান।

 

পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিএনপির কঠিন সময়ে সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে থেকেছেন।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

 

বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি না করার বিষয়ে সতর্ক করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ায় এবার প্রতিযোগিতা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ বেশি থাকবে।

 

গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যাতে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান না নেন, সে বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 

স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি দলীয় নেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

 

বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠকে একদিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা—দুই বিষয়ই গুরুত্ব পায়।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন

এসআর

সম্পর্কিত খবর