[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন দল এনসিপি: ৬টি আসন কি কেবলই শুরু?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৩:৪৬ পিএম

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত হওয়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সদ্য

 সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দলটির এই যাত্রাকে 'প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে রূপান্তর' হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​জোটবদ্ধ লড়াই: শুরুতে এককভাবে লড়ার ঘোষণা দিলেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ৩০০ আসনের মধ্যে দলটি মাত্র ৩০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টি আসনে জয় পায়।
​সংসদীয় অবস্থান: বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপি জোট মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে।


​দলের প্রতিক্রিয়া: এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ফলাফলকে 'উৎসাহব্যঞ্জক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র ১১ মাস বয়সি একটি দলের জন্য ৬টি আসন পাওয়া বড় সাফল্য। তবে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে তারা আরও অন্তত ২-৩টি আসন পেতে পারতেন।

​আল জাজিরার প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ার একজন সাধারণ ভোটার রুহুল আমিনের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, অনেক ভোটার প্রচলিত বড় দলগুলোর বাইরে একটি 'তৃতীয় শক্তি'র আশায় এনসিপিকে সমর্থন করেছেন। যদিও দলটি আশানুরূপ গণজোয়ার তৈরি করতে পারেনি, তবুও সমর্থকদের বিশ্বাস—ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এনসিপি একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।


​"রাজনৈতিক কাঠামোতে টিকে থাকা এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য আমাদের জোটে যেতে হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘ যাত্রার কেবল শুরু।" — আসিফ মাহমুদ, মুখপাত্র, এনসিপি

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের আন্দোলন আর সংসদের নির্বাচনী রাজনীতির ব্যাকরণ ভিন্ন। এনসিপির জন্য চ্যালেঞ্জ হলো তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা এবং জোটে থেকেও নিজেদের স্বতন্ত্র আদর্শ বজায় রাখা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর