বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজকে দক্ষ কারিগর
হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো হলো:
চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ: জামায়াত আমির ঘোষণা দেন যে, ১২ তারিখ নির্বাচনে জয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে। তিনি বলেন, "চাঁদাবাজির সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, এটি স্রেফ দুর্বৃত্তপনা।
যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা: যুবকদের বেকার ভাতা নয়, বরং তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যুবকদের কাউকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ বা অস্ত্রবাজ হতে দেওয়া হবে না।
বাজার সিন্ডিকেট ও কৃষক: কারওয়ান বাজারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক তার পণ্যের নায্য মূল্য পায় না, অথচ ভোক্তাকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হয়। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও আবু সাঈদ: আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা যে উদ্দেশ্যে রক্ত দিয়েছে, সেই আমানত রক্ষা করতে হবে। তিনি বৈষম্যহীন ও সাম্যের সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ ও ইসি: বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে মা-বোনদের ওপর হামলা ও বাধার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আলামত ভালো নয়," এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিশোধের রাজনীতি নয়: ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত কোনো প্রতিশোধ নেয়নি এবং কোনো কর্মীকে অন্যায় বা চাঁদাবাজিতে জড়াতে দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: