[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই অগ্রাধিকার: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১:৪০ এএম

রাজধানীতে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সবার আগে গুরুত্ব পাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির কার্যকর প্রতিরোধ।

তার ভাষায়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারলে দেশের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যাবে।


শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমরা ভাবনা বাংলাদেশ’ শিরোনামের জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পার্কের উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত এ আয়োজনে বিজয়ীরা নানা প্রশ্ন তুলে ধরেন, যার জবাবে তিনি নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।


‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে চালু থাকা বহু প্রকল্পে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।

অনেকেই একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন, আবার অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ধারণার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এই কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারভিত্তিক সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে কৃষক, ভ্যানচালক বা সরকারি কর্মচারী—সব পরিবারের সদস্যরাই সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

স্বামীহারা নারী ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোকেও এর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।


শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সংযোজন
শিক্ষাব্যবস্থাকে আকর্ষণীয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, আবৃত্তি, গানসহ নানা সৃজনশীল বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা উচিত।

এতে শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটবে এবং তারা অযথা ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করা থেকে দূরে থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও অনলাইন ঝুঁকি-
সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও এসিড সহিংসতার মতো বিষয়গুলো রোধে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, সঠিক-ভুলের ধারণা শৈশবেই গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সামাজিক অপরাধ অনেকটাই কমবে।


ব্যারিস্টার জাইমা রহমান অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে ডিজিটাল শিক্ষা ও কমিউনিটি-ভিত্তিক রিপোর্টিং ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় কমিউনিটি থাকলে অনলাইন অপব্যবহার দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিকার করা সম্ভব।


সহশিক্ষা কার্যক্রমে নতুন ভাবনা-
তারেক রহমান একটি অভিনব প্রস্তাবও দেন—স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দল গঠন করে গবাদিপশু বা পোষা প্রাণী লালন-পালনের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে উপস্থিতদের মতামত জানতে চান তিনি। এতে দায়িত্ববোধ ও বাস্তবজ্ঞান বাড়বে বলে মত দেন তিনি।


প্রবাসী ও দক্ষতা উন্নয়ন-
বিদেশে কর্মরত তরুণদের দক্ষতার অভাবের কারণে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করে পাঠানো প্রয়োজন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


ঢাকার যানজট ও বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা-
ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে জেলা শহরগুলোতে আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলতে হবে।

সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা হলে মানুষ ঢাকামুখী হবে না।
পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে মনোরেল ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এবং শহরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সহজ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর সফল ব্যবহার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফেসবুকের আঞ্চলিক অফিস বাংলাদেশে আনার চিন্তাভাবনাও আছে বলে জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার ১০ বিজয়ীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তারেক রহমান ও জাইমা রহমান।

অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন—তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান এবং রমেসা আনজুম রোশমী।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর