বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম না উল্লেখ করে বলেছেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান, তাদের প্রটোকল তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুর উপজেলার আইনপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলতে চান—যাদের প্রটোকলের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হোক। কারণ, কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং বিষয়টি তারা বুঝতেও পারছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিএনপি চায় না সেই ক্ষোভ থেকে কেউ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ুক। সে কারণেই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, বিএনপিকে যে পরিমাণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি প্রটোকল নিশ্চিত করা হোক।
জনসভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয় অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছে—সে ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
তার ভাষায়, নির্বাচনের মাধ্যমে যদি দেশে গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে ভোটের দিন ধানের শীষেই সিল দিতে হবে।
দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর করতে হবে এবং মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই নিশ্চয়তা একমাত্র ধানের শীষ প্রতীকই দিতে পারে।
পূর্ববর্তী বিএনপি আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপস্থিত অভিজ্ঞ নাগরিকরা সাক্ষী—যখন বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, সে সময় সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারত, সরকারকে সমালোচনা করার সুযোগ ছিল এবং ভিন্নমত প্রকাশের জন্য কাউকে গুম বা খুনের শিকার হতে হয়নি।
এসআর
মন্তব্য করুন: