[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

গণতন্ত্র শুধু জাতীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করাও জরুরি- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত শোনার পাশাপাশি তিনি নিজেও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
তারেক রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও কমিউনিটি পর্যায়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী না হলে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গণতন্ত্র একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও চর্চার ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সর্বত্র গণতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়।


স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত সীমিত।

আর্থিক অক্ষমতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমিত সম্পদের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণ, বাজেট অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ দীর্ঘ সময় লাগে। অথচ রোগীরা সেই সময়ের মধ্যে সেবা পায় না। তাই দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই।
তারেক রহমানের মতে, প্রতিটি জেলায় সব ধরনের বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়। উন্নত দেশগুলোর মতো নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে.।

একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ রোগের প্রাথমিক সেবা ঘরে ঘরেই পাওয়া যায় এবং বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমে।


বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাচ্ছে, ফলে তারা প্রত্যাশিত আয় ও অবদান রাখতে পারছে না।

বিএনপি সরকারে এলে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করা হবে এবং ভাষা শিক্ষাকে প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে তরুণরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।


নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষায় বিনামূল্য সুবিধা চালুর ফলে দেশে নারী শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ড পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হবে।


তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত—নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করে এবং নারীর সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করে।


পরিবেশ সুরক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে নাগরিকরা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে, ফলে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সমস্যার সমাধান সহজ হয়। তিনি জানান, বিএনপির পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ৮০ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে সরকারি নার্সারির মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হবে।


কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, এটি অর্থনীতির একটি বাস্তবতা হলেও কৃষকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতীকী নয়, কৃষকদের জন্য বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর