কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন আদালত পাড়ায় গড়িয়েছে। ঋণ খেলাপির
অভিযোগে প্রার্থিতা হারানো বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট করেছেন। অন্যদিকে, একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
প্রাথমিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলে ইসিতে আপিল করেন এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেই আপিলের শুনানি শেষে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও গত ৯ জানুয়ারি হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়ায় হাসনাতের প্রার্থিতা আপাতত বৈধ থাকছে।
ঋণ খেলাপি বিতর্ক ও ব্যাংকের বক্তব্য
চেম্বার আদালত গত ১৪ জানুয়ারি এক আদেশে জানান, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম এখনো ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছে। তার নাম স্থগিত সংক্রান্ত রুলটি দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমান আইনি অবস্থায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।
তবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার জানিয়েছেন:
“মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ইতিমধ্যেই ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, উচ্চ আদালতের রুল নিষ্পত্তি হলে তিনি দ্রুতই ঋণ খেলাপি থেকে মুক্ত হবেন।”
পরবর্তী ধাপ
হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের ওপর শুনানি শেষে নির্ধারিত হবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনী দৌড়ে ফিরতে পারবেন কি না। অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ থাকায় দেবিদ্বারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: