বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে যে কজন লেখক নিজস্ব স্বকীয়তা ও বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে শাম্মী তুলতুল অন্যতম।
শাম্মী তুলতুল এমন একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতার চর্চা ছিল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
পারিবারিক পরিবেশ থেকেই তিনি লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান, আবৃত্তি, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শৈশব থেকেই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাময়িকী ও সাহিত্যপত্রে লেখালেখি শুরু করেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার লেখা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছেও পৌঁছে যায়।
ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বিভিন্ন বাংলা প্রকাশনায় তার রচনা প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু গণমাধ্যমেও তার সাক্ষাৎকার ও সাহিত্যকর্ম স্থান পেয়েছে।
শাম্মী তুলতুল কেবল কথাসাহিত্যিক নন। তিনি শিশুসাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সামাজিক সচেতনতামূলক লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতা, উপস্থাপনা, বেতার কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক বিষয় তার লেখায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। গল্প, উপন্যাস এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষণীয় বার্তার সমন্বয়ে রচিত বইগুলো পাঠকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
তার কিছু বই পাঠকমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দেশ-বিদেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সহজলভ্যতা অর্জন করে। মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক সংস্করণেও তার রচনার পাঠকসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শাম্মী তুলতুলের সাহিত্যকর্মের কিছু অংশ নাট্যরূপ পেয়েছে এবং বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। শিশু-কিশোর সাহিত্যে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে সাহিত্যবোদ্ধারা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার রচনাকে গবেষণার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন শিক্ষা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।
সাহিত্য, সমাজসেবা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নারী নেতৃত্ব, সাহিত্যচর্চা, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিক সংগঠন তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পথ চললেও শাম্মী তুলতুল নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিকূলতা মানুষকে আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
লেখালেখি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো—সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তন এবং মানুষের চিন্তার জগতে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির একটি শক্তিশালী উপায়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শাম্মী তুলতুল। তার প্রত্যাশা, সাহিত্য হবে মানবিকতা, সচেতনতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার।
নিজস্ব সাহিত্যভুবন, বহুমুখী প্রতিভা এবং নিরলস সৃজনশীলতার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি এখন সম্ভাবনাময় এক শক্তিশালী নাম।
এসআর