কক্সবাজার পৌরসভার বহুল আলোচিত প্রায় ১,৫০০ টমটম (ইজিবাইক) লাইসেন্স ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছেন সাবেক লাইসেন্স পরিদর্শক প্রমথ পাল।
মহেশখালী পৌরসভায় বদলির পরও তিনি কক্সবাজার পৌরসভায় পুনরায় পদায়নের চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে টমটম লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর প্রমথ পালকে মহেশখালী পৌরসভায় বদলি করা হয়।
একই সময়ে তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত নুরুল হককেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার শহরে নিয়মের বাইরে বিপুলসংখ্যক টমটম চলাচলের পেছনে লাইসেন্স ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অনিয়ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ সুযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে লাইসেন্স ইস্যু করে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এদিকে প্রমথ পাল বর্তমানে মহেশখালীতে কর্মরত থাকলেও কক্সবাজার পৌরসভায় পুনঃপদায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, এ উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, প্রমথ পালের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা (আবেদন) বিচারাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রমথ পালের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত সংখ্যক টমটমের লাইসেন্স দেওয়ার কারণে বর্তমানে কক্সবাজার শহরে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
এতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
কক্সবাজারের কয়েকজন সচেতন নাগরিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে পুনরায় একই কর্মস্থলে পদায়ন করা উচিত হবে না।
তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করা হলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এসআর