[email protected] সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৬:১৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার মিথ্যা দাবি এবং ভুয়া চিকিৎসাসংক্রান্ত

 কাগজপত্র জমা দিয়ে মামলা দায়ের করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

​পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মামলার বাদী নূর হোসেনের আহত হওয়ার কোনো প্রমাণ তো পাওয়া যায়ইনি, বরং আদালতে দাখিল করা চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও সম্পূর্ণ জাল ছিল। এর ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন।

​প্রতিবেদনটি সম্প্রতি আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বাদী নূর হোসেনের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

​ঘটনার পটভূমি ও মিথ্যা দাবির তথ্য:

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলনের সময় নূর হোসেন পিঠে ৬টি এবং দুই পায়ে ৩টি সহ মোট ৯টি গুলি লাগার দাবি করেন। পরবর্তীতে হামলাকারীদের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন নূর হোসেন।

​তদন্তে উঠে আসা জালিয়াতির চিত্র:

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার ও নথি যাচাই করে দেখা গেছে—সংশ্লিষ্ট তারিখে নূর হোসেন নামের কেউ সেখানে চিকিৎসাসেবা নেননি। প্রতিবেদনে দুটি বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে:

১. নূর হোসেনের দাখিল করা ব্যবস্থাপত্রটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা, যেখানে সচরাচর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন।

২. চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত ক্যাশ মেমো নম্বরটি ছিল আব্দুস সাত্তার (৫৪) নামের অন্য এক রোগীর এবং পেশেন্ট আইডি নম্বরটি ছিল জুয়েল (৩২) নামের আরেক ব্যক্তির।

এ ছাড়া সরকারের প্রকাশিত জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের গেজেটেও নূর হোসেনের নাম নেই।

​অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্তরা:

তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে বাদী মিথ্যা তথ্যে এ মামলা দায়ের করেছিলেন। এ মামলায় অন্যান্য মামলায় কারাগারে থাকা ৮ জন আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলেও সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ডিএনসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।

​মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। 

এইচ/এম

সম্পর্কিত খবর