সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর নতুন করে
আলোচনায় এসেছে দেশটির নারী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া নারী কর্মীদের বড় একটি অংশই সৌদি আরবে কাজ করতে যান। কিন্তু একই সাথে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, বঞ্চনা ও বেতন না পাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বহু নারী।
বিদেশে নারী কর্মীদের পরিসংখ্যান
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের (২০২৬) অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশে যান এক লাখ ৭২ হাজারের বেশি নারী কর্মী। এর মধ্যে একা সৌদি আরবেই গেছেন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। তবে অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা দেড় হাজারেরও বেশি নারী কর্মীর মধ্যে প্রায় এক হাজারই ফিরেছেন সৌদি আরব থেকে।
কেন ফিরছেন নারী কর্মীরা?
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর তথ্যমতে, গবেষণায় দেখা গেছে ফিরে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ নারী কর্মীই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নিয়মিত বা সঠিকভাবে বেতন না পাওয়া।
যৌন নিপীড়ন ও মানবেতর জীবনযাপন।
কাজের উপযুক্ত পরিবেশ এবং নিরাপত্তার অভাব।
চুক্তি ও সুরক্ষার ঘাটতি
সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহর মতে, ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিতে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কর্মীদের সুরক্ষা ও সুবিধার বিষয়টি সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া অনেক নিয়োগকারী এজেন্সি কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই গ্রাম থেকে নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠায়। এতে ভাষা ও আধুনিক গৃহস্থালি কাজের দক্ষতার অভাবে তারা বিপদের মুখে পড়েন।
পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সাধারণ শ্রমিক নিয়োগ চুক্তি সই হলেও বাস্তবে নারী কর্মীদের প্রতি নির্যাতনের চিত্র বদলায়নি। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো তাদের নারী কর্মীদের সুরক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ করলেও বা উচ্চ বেতন দাবি করলেও বাংলাদেশ তুলনামূলক কম বেতনে ও শিথিল শর্তে কর্মী পাঠাতে সম্মত হয়।
সৌদি সরকারের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সৌদি আরবে বিদেশি নারী কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজ, অপমান ও যৌন নিপীড়নের একটি বিবরণ তুলে ধরে। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের শ্রম আইনে সংস্কার আনা হয়েছে। নিয়োগকর্তারা নির্ধারিত কাজের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করতে পারবেন না এবং কর্মীদের সুরক্ষা ও অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের ব্যবস্থা রয়েছে।
এত নীতি ও সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রবাসী নারী গৃহকর্মীদের দুর্ভোগ ও নির্যাতন কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এসআর