নিউইয়র্ক থেকে এম. এ রনী: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের সফর সাজানো হয়েছে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে।
জাতিসংঘের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি তুরস্ক, ভুটান, ক্রোয়েশিয়া, পাকিস্তান ও কুয়েতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার সূচি রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পার্শ্ব-আয়োজনেও অংশ নেবেন তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্ট এবং ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার পর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।
এরদোয়ানের সঙ্গে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সূচির শুরুতেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
এরই মধ্যে তুরস্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশে একটি যৌথ ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। বগুড়ায় প্রস্তাবিত এ কারখানাটি যৌথ উদ্যোগে স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং টোবগের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ২২ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে এ দুই নেতার বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
২৩ সেপ্টেম্বর ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। একই দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনেও অংশ নেবেন তিনি।
‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’ শীর্ষক ওই আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফের সঙ্গে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
এরপরই রয়েছে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সূচি রয়েছে এবং বক্তব্যের জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে।
শেষ দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক
নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে, ২৫ সেপ্টেম্বর, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। একই দিনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাত ১১টায় এমিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
স্বল্প সময়ে বিস্তৃত কূটনৈতিক কর্মসূচি
মাত্র কয়েক দিনের সফরে পাঁচ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘের একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে জলবায়ু, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আয়োজন রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়ে নানা দাবি প্রচারিত হয়েছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ‘৩০০–৪০০ জন নিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে পিকনিক’—এ ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকায় সংবাদ প্রতিবেদনে সেটিকে তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এসআর