সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’-এর সুপারিশ এবং এ বিষয়ে গঠিত সচিব কমিটির মতামতের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ও বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার পর প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
গ্রেড-১-এর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোয় এবার ‘প্রতিবন্ধী সন্তান’ ভাতা চালুর সিদ্ধান্তও রয়েছে। এ ভাতার আওতায় যোগ্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি শুরু হবে।
প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর আগে সোমবার সকালে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক চাপ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে।
এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হলেও নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়নি।
ফলে প্রায় ১১ বছর ধরে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয়ে আসছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এর আওতায় আসবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা। আইনি যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এরপরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
এসআর