[email protected] বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অভিযোগে তদন্ত, বেবিচকের প্রকৌশলীকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬ ৯:৪২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাবার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

তবে গুরুতর অভিযোগের পরও তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তসহ একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র বদলির সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নিয়োগের বৈধতা, দীর্ঘ চাকরিজীবন, পদোন্নতি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০০১ সালে বাবার নামে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। পরে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় ডেটাবেজে তার বাবার নাম পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত সনদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকলেও সরকারি গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম নেই। এ কারণে সনদগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি গেজেট ও জাতীয় তালিকাই মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের চূড়ান্ত ভিত্তি।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ১৬ জুন বেবিচকের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর