[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিএনপিতে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬ ১১:০৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

দলের ভেতরে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কড়া অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রের নির্দেশনার সঙ্গে তৃণমূলের বাস্তব চিত্রের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে।

 

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কিংবা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে অনেক নেতা সেই নির্দেশনা অনুসরণ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নতুন সদস্য গ্রহণের প্রবণতা দলীয় শৃঙ্খলার জন্য দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, বিতর্কিত, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা সন্ত্রাসী পরিচয়ের কাউকে দলে নেওয়া হচ্ছে না; বরং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, নতুন সদস্য গ্রহণের বিষয়ে পূর্বের নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে।

 

দলীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট এবং পরে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কোনো কমিটিতে অন্য দল থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

সম্প্রতি গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষের কারণে তাদের একাংশ দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

একইভাবে গাজীপুরের টঙ্গী ও কুমিল্লার তিতাস উপজেলাতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 

দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে একটি শর্ত ছিল—যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ, লুটপাট বা গুরুতর অভিযোগ নেই এবং যাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিতর্কমুক্ত, তাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলা সবার দায়িত্ব। অন্যদিকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিমের মতে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যোগদানের বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা রয়েছে।

 

দলীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যে এই অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর