[email protected] শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জুন জুড়ে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার, মাঠ থেকে ব্যারাকে ফেরার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬ ৯:১৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পুরো জুন মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনাবাহিনীকে সরানো হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকেও সদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। সবশেষে মাঠে থাকা সেনাসদস্যদের নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর এ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।


প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও চাঁদাবাজি দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, পুলিশের পোশাক সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে তাদের সীমিত বিচারিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়।


সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। ধীরে ধীরে কিছু সদস্য প্রত্যাহার শুরু হলেও নির্বাচনকে ঘিরে আবারও তাদের মাঠে রাখা হয়।


বর্তমানে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন মাঠে থাকার কারণে তাদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রত্যাহারের পক্ষে মত দেয়।


সাম্প্রতিক বৈঠকে সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুতর অভিযোগ নেই এমন গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিনে বাধা না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিদেশযাত্রায় অযথা হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।


মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।


পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা গৃহীত হয়নি। ফলে বিদ্যমান নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্ট বহাল থাকছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর