গত সরকারের রেখে যাওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ এবং দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত
‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ বা 'শাস্তি'র মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা মূলত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাগাড়ম্বর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় বিশ্বাসী নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে এই প্রথম কোনো সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সর্বজনীন কর্মসূচির আওতায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
উক্ত সভায় ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জনপ্রতিনিধিরা তাদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ নদী ভাঙন রোধ ও কাজের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান।
গোপালগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বিগত সময়ের প্রকল্পগুলোর অসারতা এবং এলাকার রাজনৈতিক বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা কৃষি উপকরণের সিন্ডিকেট ও জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসআর