[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ফেব্রুয়ারিতে ৯ দফা ভূকম্পন: কেন বাড়ছে কাঁপুনি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৮:০৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মাসের প্রথম ২৬ দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত নয়বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন ধরা পড়েছে।


সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্প টের পাওয়া যায়। European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানায়, এ কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্য, যা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের নিকটবর্তী


এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে, মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।


যদিও এসব ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ঘনঘন কম্পনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।


মাসের শুরু থেকেই ভূকম্পনের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৩ মাত্রার একটি কম্পন দিয়ে মাসের সূচনা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিয়ানমার কেন্দ্রিক দুটি কম্পন অনুভূত হয়। একই দিনে ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ধরা পড়ে
পরবর্তী সময়ে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকা থেকেও ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষভাগ পর্যন্ত নয় দফা কম্পনের অভিজ্ঞতা হলো দেশবাসীর।


ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে ভূত্বকের ভেতরে শক্তি জমা হতে থাকলে তা কখনও ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে বড় ধরনের শক্তি দীর্ঘ সময় অবমুক্ত না থাকলে তা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তাই সাম্প্রতিক সময়ে ছোট কম্পনের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়াকে সতর্ক সংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণে বিধিমালা মানা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর