[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প: বড় দুর্যোগের অশনিসংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৭ পিএম

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ২৬

 দিনে দেশে মোট আটবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সর্বশেষ গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত কেঁপে ওঠে।

​আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে:


​১ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন।
​৩ ফেব্রুয়ারি: এক দিনেই তিনবার কম্পন (সাতক্ষীরায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রা)।
​৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে আরও দুই দফা কম্পন।
​১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প।
​২৬ ফেব্রুয়ারি: মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৫.১ মাত্রার কম্পন।

​ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার এই ঘন ঘন কম্পনকে বড় কোনো বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। তার মতে:


​শক্তির সঞ্চয়: ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করে। ছোট ছোট এই কম্পনগুলো ভূ-অভ্যন্তরের বড় অস্থিরতারই ইঙ্গিত।


​ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে।


​প্রস্তুতির অভাব: বাংলাদেশে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি এখনো কেবল উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
​"ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণ ও নিয়মিত মহড়ার কোনো বিকল্প নেই।" — অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন থেকেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
১. বিল্ডিং কোড: ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা।
২. ঝুঁকিপূর্ণ ভবন: দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে সেগুলো সংস্কার বা অপসারণ করা।
৩. জনসচেতনতা: ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা এবং নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর