[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

রোজার শুরুতেই বাজারে আগুন, চাপে সাধারণ ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রমজানের প্রথম দিকেই রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

সাপ্তাহিক ছুটি ও ইফতারকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার কারণে মাছ–মাংসের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস এবং মাঝারি মানের কয়েক ধরনের মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে কয়েকটি সবজির দামে সামান্য স্বস্তি মিলেছে। কুমড়া কেজিতে ১৬–২০ টাকা, মুলা ১২–২০ টাকা এবং বরবটি প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ইফতারসামগ্রীর মধ্যে বেগুন ও শসার দাম ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। লেবু হালিপ্রতি ৮০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে কেজিতে ৪০ টাকায় নেমেছে।


মুরগি ও গরুর মাংসে বাড়তি চাপ-
বর্তমানে সোনালি মুরগি কেজিতে ৩০০–৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০–২৮০ টাকার মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি ২০০–২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল প্রায় ১৮০ টাকা। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি প্রায় ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


গরুর মাংস কেজিতে ৮০০–৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০–৭৮০ টাকা। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা রয়েছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই-
মাঝারি আকারের রুই ৩৫০–৪২০ টাকা, কাতলা ৩৮০–৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০–২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। শিং, মাগুর ও চিংড়ির দামও তুলনামূলক বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম চড়া।


রামপুরা এলাকার এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজারের খরচ বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে যে মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছেন, এখন সেটি ৪০০ টাকার বেশি। একইভাবে মুরগির দামও বেড়েছে, ফলে মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।


বনশ্রীর এক গৃহিণী বলেন, রমজানে মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু কেজিতে ৩০–৪০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে। ডিমের দাম স্থির থাকলেও অন্য পণ্যে খরচ বেড়েই চলেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি, খামার পর্যায়ে দাম বাড়া এবং পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরায় তা প্রভাব ফেলছে।


ডিমের বাজার স্থিতিশীল- 
ডজনপ্রতি ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এ পণ্যে আপাতত বাড়তি চাপ নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।


বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতে বাড়তি চাহিদার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে মাসজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যথায় মধ্য রমজানে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক ক্রেতা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর