অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তাঁর মতে, এসব চুক্তির শর্ত, দায়-দেনা এবং আর্থিক প্রভাব স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব বৈদেশিক চুক্তি হয়েছে—তা পরিচিত বা অপ্রকাশিত—সবই নথিপত্রসহ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আগের সরকারের শেষ সময়ে সম্পাদিত ক্রয় ও আর্থিক চুক্তিগুলোতে কোনো নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তি শুধু একটি দেশের সঙ্গে বা নির্দিষ্ট কোনো খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; আরও নানা ক্ষেত্রে চুক্তি হয়েছে, যার সব তথ্য জনসমক্ষে নাও থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকার যে অবস্থায় পেয়েছিল, বিদায়ের সময় তা আরও চাপের মুখে পড়ে থাকতে পারে।
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা কিংবা উন্নয়ন কর্মসূচির সমন্বয়হীনতা—এসব কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে নতুন সরকার একটি তুলনামূলক নাজুক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বৈদেশিক চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে নতুন সরকারের ওপর বর্তানো দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট করা উচিত।
বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এসব চুক্তির প্রভাব নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রূপান্তরকালীন টিম যদি এসব বিষয় গভীরভাবে যাচাই করে যেতে পারে, তাহলে ভবিষ্যৎ সরকারের নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: