[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্র, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার প্রস্তুত

২৯৯ আসনে ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি, অনলাইনে প্রচারণায় বাধা নেই: ইসি

এম. এ. রনী

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯:১৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা অনলাইনে চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অনলাইনে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালানো হলেও তা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী হবে না, তবে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে আচরণবিধির সীমার মধ্যেই থাকতে হবে। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার এসব তথ্য জানান।

২৯৯ আসনে ভোট, একটি আসনে স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে অবস্থানরত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। ফলে কোনো ভোটার ভোটের সময় কেন্দ্র এলাকায় থাকলে তার ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা থাকবে না।

প্রার্থী ও ভোটারের পরিসংখ্যান এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী, যা নির্বাচনে নারী অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দিক বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। দেশজুড়ে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের জন্য নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানান সানাউল্লাহ।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র, অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশের ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়নে এসব কেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক সাধারণ কেন্দ্র, আর বাকি অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানান কমিশনার।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবে ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে সানাউল্লাহ জানান, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যা নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে সহায়ক হবে।

ইতিমধ্যে পোলিং অফিসার ও নির্বাচন সামগ্রী নির্বাচন পরিচালনায় ৫ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সামগ্রী বৃহস্পতিবার থেকে পর্যায়ক্রমে বিতরণ শুরু হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

পোস্টাল ভোট ও প্রবাসী ভোট নিয়ে সানাউল্লাহ জানান, আজ সকাল পর্যন্ত পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ৭ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে শতাধিক প্রতীক থাকায় ফলাফল গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ফল নির্ধারণে কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ভোটের দিন চার দফা ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি জানাতে চারবার ব্রিফিং করবে। ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে তিনি বলেন, গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

ফলাফল গণনা ও ঘোষণা সম্পর্কে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গে গণনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা অনুযায়ী, বেশিরভাগ আসনের ফলাফল ভোটের রাতেই পাওয়া যাবে।

কালো টাকা রোধে নজরদারি ব্যাপারে বলেন, নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-কে সতর্ক নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনী ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর