শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাসভবন যমুনায় আমন্ত্রণ জানান।
মূলত হাদির সন্তান ফিরনাসের দেখভালের বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন শম্পা। তিনি জানান, দুপুর ১২টায় ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি ও ফিরনাস যমুনায় যান। তবে সেখানে যাওয়ার পথে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়—সরকারের ভেতর এখনও একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিল।
ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে শম্পা বলেন, শুরুতে তিনি কেন ডাকা হয়েছেন তা পরিষ্কারভাবে জানা ছিল না। পরে বোঝা যায়, ফিরনাসের দেখভাল সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কাগজপত্র হস্তান্তরের উদ্দেশ্যেই এই সাক্ষাৎ। এ সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে স্পষ্টভাবে জানান, তার স্বামীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাব না পেলে তার সন্তান কোনো সুবিধা গ্রহণ করবে না।
শম্পার ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তার হাতে থাকা সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক উপায় ব্যবহার করে, এমনকি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হলেও, ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হবে।
চাকরির প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা তার ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন নিয়েও খোঁজখবর নেন। এ সময় শম্পা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি নিতে চান। ফিরনাসের জন্য নেওয়া উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয়ে কোনো প্রত্যাশা নেই বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাস পেয়েই তিনি সাক্ষাৎ শেষ করে বাসভবন ত্যাগ করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: