[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে বাধা নেই, তবে গোপন কক্ষে ছবি নিষিদ্ধ: ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২:৫৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে আগের নির্দেশনা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য—ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা যাবে, তবে গোপন কক্ষে ব্যালটে সিল দেওয়ার সময় কোনো ছবি তোলা যাবে না।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।


তিনি বলেন, ভোটার, প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে প্রবেশের পর ব্যালট চিহ্নিত করার সময় ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।


ইসি সচিব জানান, ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আগের নির্দেশনা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকবে। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।


আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার ও সাংবাদিকদের মূল উদ্বেগ ছিল—মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকা যাবে কি না। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার, মোবাইল বহনে কোনো বাধা নেই, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।


নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বড় মিছিল, সভা ও শোডাউন নিষিদ্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের একটি পৃথক মনিটরিং সেল কাজ করছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তপশিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো অভিযোগ এখনো আসেনি।


নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফল প্রকাশে অযথা বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। যত ভোট পড়বে, সব ব্যালট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে। ভোটারের সংখ্যার ভিন্নতার কারণে কোথাও সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে সেটিকে বিলম্ব বলা যাবে না।


বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন।

এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি—২২৩ জন, যা বাড়তে পারে প্রায় ২৫০ জনে। এ ছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল), আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।


ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন ঘিরে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে- এমন প্রত্যাশাই নির্বাচন কমিশনের।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর