রাজধানীর পল্টনে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুর ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের
ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের মামলার প্রেক্ষিতে স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুটি ভীষণ বিষণ্ণ ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রধান শিক্ষক নির্যাতনের বিষয়টি 'সামান্য চড়' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার ভয়াবহতা ফুটে ওঠে।
ফুটেজ দেখে অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে ক্ষমা চাইলেও স্কুলের ব্যবস্থাপক তাদের ওপর চড়াও হন এবং হুমকি প্রদান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয় কেন?: সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন মামলার জন্য অপেক্ষা করতে হলো? কেন পুলিশ আগে থেকেই অভিযুক্তকে আটকে পদক্ষেপ নিল না?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা: যে স্কুলকে শিশুদের দ্বিতীয় আশ্রয়স্থল মনে করা হয়, সেখানে এমন নিষ্ঠুরতা অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বিবেকের দায়বদ্ধতা: এই ঘটনা কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও শিশুদের সুরক্ষার অভাবকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে।
বর্তমান অবস্থা
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এমন একটি বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা কোনো শিশুর গায়ে হাত তোলার সাহস না পান।
এসআর
মন্তব্য করুন: