রাজধানীর পল্টনে একটি স্কুলে চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পল্টন থানায় শিশু অধিকার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—পল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের ওই স্কুলের শিক্ষক পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শারমিন জামান। ঘটনার পর থেকেই স্কুলটি বন্ধ করে আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ওই শিশুটিকে টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান এক নারী শিক্ষক।
সেখানে তাকে দফায় দফায় চড়-থাপ্পড় মারা হয়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কক্ষে থাকা এক ব্যক্তি (পবিত্র বড়ুয়া) শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার চেপে ধরে স্ট্যাপল করার ভান করে ভয় দেখাচ্ছেন এবং একপর্যায়ে শিশুটির গলা চেপে ধরে সোফায় ফেলে রাখছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, শিশুটি মাত্র সাত দিন আগে ওই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।
মামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক এবং স্কুলটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন এবং শিশুদের স্কুলে পাঠানোর আগে সচেতন হওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: