আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কোনো মন্ত্রিপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমবারের মতো
ঢাকা সফরে এসেছেন দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী মৌলভি আহমাদুল্লাহ জাহিদ। মূলত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) তিনি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
সফরের মূল উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড
বাণিজ্য মেলা পরিদর্শন: সোমবার তিনি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) কর্মকর্তাদের সাথে বাণিজ্য মেলা পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশি পণ্যের মান ও প্রদর্শনীর প্রশংসা করেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং ইপিবি-র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব: মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আফগান বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উভয় দেশ বিদ্যমান বন্ধুত্বের সম্পর্ককে একটি 'কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে' রূপান্তর করতে একমত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
বৈঠকগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও আলোচনা হয়েছে:
ওষুধ রপ্তানি: বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও চিকিৎসা পণ্য আমদানিতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে আফগানিস্তান। আজ বুধবার তার স্কয়ার ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
কার্গো বিমান চলাচল: বাণিজ্য সহজ করতে কাবুল ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন আফগান উপমন্ত্রী।
আমদানি-রপ্তানি পণ্য: আফগানিস্তান বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (RMG) আমদানিতে আগ্রহী এবং এর বিনিময়ে তুলা, শুকনো ফল ও বিভিন্ন কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে চায়।
শুল্কমুক্ত সুবিধা: আফগান পক্ষ তাদের পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা (Preferential Tariffs) এবং ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে।
যৌথ কমিটি: বাণিজ্য বাধা দূর করতে একটি যৌথ কমিটি গঠন এবং কাবুল ও ঢাকায় নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য: ২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই বাংলাদেশে তাদের প্রথম উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সফর। যদিও বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পর্ক সীমিত, তবে এই সফর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: