[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন উদাহরণ: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৩১ পিএম

গণভবনে নবনির্মিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও কাজের অগ্রগতি

 পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন এবং গত ১৬ বছরের দুঃশাসন ও চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাসের চিত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।


​পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
​প্রধান উপদেষ্টার এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ। গুম হওয়া পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


​জাদুঘরে যা রয়েছে
​জাদুঘরটিতে জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, শহীদদের পোশাক, ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, চিঠিপত্র, এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়ন ও গুমের নৃশংস চিত্র এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও এখানে স্থান পেয়েছে। পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন।


​প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য
​জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন:
​ইতিহাসের শিক্ষা: এই জাদুঘরটি শহীদদের রক্তের স্মৃতি তাজা থাকতেই নির্মাণ করা হয়েছে, যা পৃথিবীতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।


​ভবিষ্যতের দিশারি: যদি জাতি কখনো পথ হারায়, তবে এই জাদুঘরই তাদের সঠিক পথ দেখাবে।
​আয়নাঘরের অভিজ্ঞতা: তিনি প্রস্তাব করেন, মানুষ যেন জাদুঘরের ‘আয়নাঘর’ অংশে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পায়, যাতে তারা বন্দিদের ওপর হওয়া নৃশংসতা উপলব্ধি করতে পারে।
​গণমানুষের অংশগ্রহণ: দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।


​উদ্বোধনের সময়কাল
​সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, অত্যন্ত অল্প সময়ে এবং অনেক স্বেচ্ছাসেবীর অক্লান্ত পরিশ্রমে জাদুঘরটি এই পর্যায়ে এসেছে। আগামী নির্বাচনের আগেই এটি জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এটি কেবল ইতিহাসের সাক্ষী নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর